পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং হাত ধোয়ার তহবিলের আহ্বান

পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং হাত ধোয়ার তহবিলের আহ্বান

স্বাস্থ্যঃ
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিষ্কার পানি, শৌচাগার এবং হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি কমপক্ষে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ওয়াটারএইড

সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিকে, বিশেষত যেসব দেশে পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং হাত ধোয়ার যথাযথ ব্যবস্থার জন্য সহায়তা প্রয়োজন, তাদের সাহায্যার্থে বিশ্ব নেতাদের কাছে কমপক্ষে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন তহবিলের আহ্বান জানিয়েছে ওয়াটারএইড।

সম্প্রতি রোমে বৈশ্বিক মহামারি পরবর্তী পুনর্গঠন শীর্ষক এক আলোচনায় জি-২০ অর্থমন্ত্রীরা এ বিষয়টির ওপর আলোকপাত করেন।

কোভিড-১৯ সহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকিতে আছে বিশ্বের ১.৮ বিলিয়ন মানুষ। এর কারণ তারা যে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যান বা কাজ করেন, সেখানে প্রাথমিক পানি পরিষেবার অভাব রয়েছে। রোগের বিস্তার ঠেকনোর অন্যতম কার্যকর উপায় হচ্ছে চিকৎসক, নার্স এবং রোগীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা।

কিন্তু তাও দেখা যায় যে, প্রতি চারটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের একটিতে নেই পরিষ্কার পানি, প্রতি তিনটি সেবা কেন্দ্রের একটিতে নেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা এবং প্রতি দশটির একটিতে নেই কোন শৌচাগার।

বিশ্বের নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ। এসব দেশের অর্ধেক হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে পরিষ্কার পানিই নেই ।
প্রয়োজনীয় এই খাতে জি-২০ এর অর্থায়নের মাধ্যমে রোগ এবং সংক্রমণে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া করোনা ভাইরাসের বিস্তার এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস করতে সহায়তা করা ছাড়াও এটি অন্যান্য রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার জায়গায় দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য প্রায়শই অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়, যা কিনা দিন দিন এমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, এ ধরণের বিনিয়োগ উঠে আসতে মাত্র ১ বছর লাগবে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগকৃত প্রতিটি ডলারের জন্য সঞ্চয় সম্ভব হবে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান ঋণ সঙ্কট দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক পানিসেবা খাতে বিনিয়োগের সক্ষমতা হ্রাস করছে। কিছু দেশ প্রতি বছর আন্তর্জাতিক ঋণ সেবা খাতে বিলিয়ন ডলার প্রদান করে।

ওয়াটারএইডের প্রধান নির্বাহী টিম ওয়েনরাইট বলেন, ‘আবার কোন বৈশ্বিক মহামারি আঘাত হানার আগে দরিদ্রতম দেশগুলোর সকল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পরিষ্কার পানি এবং সাবান নিশ্চিত করতে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে অর্থের যোগান প্রয়োজন। যেখানে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যসেবাদাতারা হাত ধুতে পারেন না, রোগীরা পরিষ্কার থাকতে পারে না এবং যেখানে যথাযথ টয়লেটের ব্যবস্থা নেই, সেটি মোটেই কোন হাসপাতাল নয় – সেটি আসলে রোগ প্রজননের ক্ষেত্র।’

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক হাসিন জাহান বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য বৈষম্য দূরীকরণ এবং উন্নত ও স্বাস্থ্যকর বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে জনগণকে একত্রিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিষ্কার পানি ও যথাযথ স্বাস্থ্যস্মমত সুবিধাদি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে ওয়াটারএইড, যেখানে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি দেয়া হচ্ছে বিশেষ নজর।

ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন ।’

-শিশির

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter