পাগলা কুকরের কামড়ে শতাধিক মানুষ আহত

সারাদেশঃ
কুমিল্লায় পাগলা কুকুর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুইদিনে শুধুমাত্র কুমিল্লা নগরীতেই কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

বিশেষ করে নগরীর অশোকতলা, বাগিচাগাঁও ও কান্দিরপাড় এলাকায় শুক্রবার একই পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৫০ জন।

জানা গেছে, শনিবার কুমিল্লার কয়েকটি বেসরকারি ও কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এসে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। শনিবার কুমিল্লার জেনারেল (সদর) হাসপাতালের জেলা জলাতঙ্ক ও প্রতিষেধক কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মাত্র দু’ঘণ্টা সময়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।
অতিরিক্ত আক্রান্ত ব্যক্তি ও হাসপাতালে যথেষ্ট লোকবলের অভাবে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হিমশিম খেতে হয় রোগীদের।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কুমিল্লা নগরীর শ্রীপুরের মাফিয়া খাতুন নামে এক বৃদ্ধা জানান, পাগলা কুকুরের কামড়ে তার উরুর বেশ কিছু মাংস উঠে গেছে। এখন তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা সম্ভব হচ্ছে না।

অশোকতলার বাসিন্দা ইদ্রিস আহামেদ বলেন, হঠাৎ এসে কুকুরটি আমার পায়েই কামড় বসিয়ে দেয়। তিনি জানান, ওই পাগলা কুকুরের কামড়ে তাদের বাড়ির আরো ১০ জন মানুষ আহত হয়েছে।

বিল্লাল হোসেন নামে অপর এক ভুক্তভোগী জানান, কান্দিরপাড় কোবা মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে বের হয়ে রাস্তায় হাঁটছিলাম। আকস্মিক পেছন থেকে এসে কুকুরটি তার পায়ে কামড় দেয়। কামড়ের ফলে তার পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং পরনের প্যান্টটিও ছিঁড়ে যায়।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এ সময়ে কুকুরের উপদ্রব বাড়ে, তাই হাসপাতালে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে যায়। জেনারেল (সদর) হাসপাতালে জলাতঙ্কের পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন রয়েছে। তারপরও বাড়তি মানুষের চাপে ভ্যাকসিন প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ভ্যাকসিন প্রদান করতে দক্ষ লোকের দরকার। দু’জনকে আমরা বিশেষ ট্রেনিং করাচ্ছি। ট্রেনিং শেষ হলে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়ুয়া বলেন, ‘বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে আমাদের কাছে এ বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ এসেছে। যেহেতেু এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়, তাই কুকুরগুলোকে আমরা মারবো না। তবে এদের নিবৃত্ত করার জন্য ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেব। শিগগিরই আমাদের টিম মাঠে নামবে।’

ভ্যাকসিনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। তাই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন রাখা হয় না।’

-ডিকে

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter