বিশ্ব টয়লেট দিবস ২০২০ উদযাপন করলো হারপিক

বিশ্ব টয়লেট দিবস ২০২০ উদযাপন করলো হারপিক

স্বাস্থ্যঃ
“টেকসই স্যানিটেশন এবং জলবায়ু পরিবর্তন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে উদযাপিত হলো বিশ্ব টয়লেট দিবস ২০২০।

“স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সুস্থ দেশ”এই স্লোগানে টয়লেট ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি লক্ষ্যে বিশ্ব টয়লেট দিবস উদযাপন করলো হারপিক।

১৯ নভেম্বর সকাল ১০ টায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন জাতিসংঘ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিশেষ দূত ও বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি এবং সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) ও সাবেক মূখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মো: আবুল কালাম আজাদ, ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানাজার রফিকুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিধ তারিক বিন ইউসুফ, ইউনিসেফের ওয়াশ বিশেষজ্ঞ মো. মনিরুল আলম, রেকিট বেনকিজারের মার্কেটিং ডিরেক্টর নুসরাত জাহান, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার মোঃ রাকিব উদ্দিন, সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানাজার সাবরিন মারুফ তিন্নি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেকিট বেনকিজারের মার্কেটিং ম্যানাজার সালাউদ্দিন আহমেদ।

জাতিসংঘ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিশেষ দূত মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, “দেশে বর্তমানে ৯৭ শতাংশ মানুষ টয়লেট ব্যবহার করছে; কিন্তু যদি বলা হয় স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট তাহলে সংখ্যাটা অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে। ঢাকা শহরে মোটামুটি ভালো অবস্থান থাকলেও মফস্বল শহরের অবস্থা ঠিক বিপরীত।

এছাড়া ট্রেন ও লঞ্চ স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, “স্কুলগামী বাচ্চাদের থেকে শুরু করে কেবলমাত্র স্বাস্ত্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার নিশ্চিত নয়, সামগ্রিক বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

এছাড়া টিউবওয়েল ও টয়লেটের নিরাপদ দূরত্ব কেমন হবে তা জেনে এগুলো স্থাপন করতে হবে। রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ স্কাউটসের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে। করোনা মহামারীতে নিয়মিত হ্যান্ডওয়াশ, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবার জায়গা থেকে সর্বত্র প্রচার চালাতে হবে।”

ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানাজার রফিকুল ইসলাম বলেন, “স্যানিটেশন নিয়ে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সে জায়গা থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছি। এবার কাজ করছি হাওরাঞ্চল ও বন্যা কবলিত অঞ্চলের টয়লেটগুলো যাতে উঁচু স্থানে স্থাপন করা হয়।”

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিধ তারিক বিন ইউসুফ বলেন, “বিচ্ছিন্নভাবে শুধু টয়লেট ব্যবহার করলেই হবে না; স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা শহরের টয়লেটগুলো নতুনভাবে সচেতনতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা প্রায় সবগুলো এনজিও-এর সাথে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সামনে অনেক সমস্যা আসবে: সকলে মিলে এগুলো সমাধান করতে হবে।

ইউনিসেফের ওয়াশ বিশেষজ্ঞ মো. মনিরুল আলম বলেন, “বর্তমানে দেশে ১ লক্ষ ৩০ হাজার স্কুলে ১৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থী আছে। তাদের মাঝে প্রয়োজনীয় ও পরিচ্ছন্ন টয়লেট নিশ্চিত করতে হবে। হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়াসহ টয়লেট রিপেয়ারিং করার সময় মলমুত্র যেন কোনো খোলা ড্রেনে ছেড়ে না দেওয়া হয় বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।”

রেকিট বেনকিজারের মার্কেটিং ডিরেক্টর নুসরাত জাহান বলেন, “দেশে বর্তমানে অনেকের কাছে টয়লেট এবং হারপিক প্রায়ই প্রতিশব্দ মনে হয়। টয়লেট পরিষ্কার মানেই হারপিক, সেবা দিয়ে সে জায়গাটা হারপিক তৈরি করেছে। শিগগিরই স্কাউটস ও ব্র্যাকের সাথে সমন্বয় করে স্কুল কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থীদের শুধু টয়লেট নয় হাইজিনের উপরে কাজ করবো। সরকারের সাথেও আমাদের কাজ করার প্রবল আগ্রহ আছে। এছাড়া সচেতনতামূলক এসব কাজে যারা কাজ করতে চাই আমরা প্রস্তুত আছি তাদের নিয়ে কাজ করতে।”

-শিশির

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter