মহামারি আর করোনায় ঈদ আনন্দ ফিকে, তবু থেমে নেই

ধর্ম, ইসলামঃ

বিশ্বের বহু মুসলিম দেশের মতো আজ ১ আগস্ট, শনিবার বাংলাদেশেও দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ঈদুল আজহা।

মুসলিম জাহানের জন্য খুশির বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে ফিরে এসেছে হযরত ইব্রাহিমের (আ.) ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই দিনটি।

যদিও এই ঈদটি বাঙালি মুসলমান সমাজে কোরবানির ঈদ নামেই সমধিক পরিচিত। এদিন দেশের ধর্মপ্রাণ ও সামর্থ্যবান মুসলিমরা ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঈদের নামাজ শেষ করে মহান আল্লাহ তা’লার সন্তুষ্টি আদায়ে পশু কোরবানি দিচ্ছেন।

সারা বিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পশু কোরবানি করে থাকেন। এছাড়াও ১১ ও ১২ জিলহজ তারিখেও পশু কোরবানি দেয়া যায়।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) চলমান সংক্রমণ ও দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা পানিতে তলিয়ে থাকায় এবারের ঈদ আনন্দ অনেকটাই ফিকে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রোধে এবার ঈদগাহ মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে মসজিদেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ঈদের নামাজ আদায় হয়েছে।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র এই ঈদুল আজহা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বীয় পুত্র ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি দেয়ার স্বপ্নাদেশপ্রাপ্ত হন। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। সে মতে তিনি প্রিয় পুত্রকে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়ে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

ইসলামে বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে গেছে, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই ইসলামি শরিয়তে হজরত ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানি করার বিধান এসেছে।

-কেএম

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter