মুফতি হান্নানের নির্দেশে ইকবাল গ্রেনেড হামলা করেন

মুফতি হান্নানের নির্দেশে ইকবাল গ্রেনেড হামলা করেন

আইন আদালতঃ
র‌্যাব গোয়েন্দা শাখার অভিযানে গ্রেপ্তার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. ইকবাল হোসেন (ইকবাল) মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, স্বীকারোক্তিতে সে জানায়, মুফতি হান্নান হামলা পরিচালনার জন্য তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। হামলা চলাকালীন সময়ে সে মঞ্চকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়েছিল। ঘটনার পর সে ঝিনাইদহে গমন করে এবং সেখানে আত্মগোপনে অবস্থান করতে থাকে।

গ্রেপ্তার পরবর্তীতে ইকবালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জঙ্গী ইকবাল এইচএসসি পাস। স্কুল ও কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। জঙ্গি ইকবাল ১৯৯৪ সালে কেসি কলেজ, ঝিনাইদহে ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিল। সে ১৯৯৫ হতে ১৯৯৮ পর্যন্ত মালয়শিয়ায় প্রবাসী কর্মজীবী হিসাবে অবস্থান করে।

দেশে ফিরে এসে জঙ্গি ইকবাল আইএসডি ফোন ও অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে। এসময় সে, সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।

২০০১ সালে তার চিন্তা-চেতনা ও মনস্তাত্বিক পরিবর্তন আসে। সে ঝিনাইদহের স্থানীয় এক জঙ্গী সদস্যদের মাধ্যমে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি)তে যোগদান করে।

২০০৩ সালে মুফতি হান্নান ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্যে চলে আসে এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। সে ২০০৪ সালে আগস্ট মাসে মুফতি হান্নানের নির্দেশে ঢাকায় চলে আসে এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকে। সেখানে হুজিবি নেতা মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য সমমানদের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয় এবং মুফতি হান্নানের সাথে বিভিন্ন স্থানে দলীয় গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে থাকে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে সে জানায়, মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। মুফতি হান্নান হামলা পরিচালনার জন্য তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। হামলা চলাকালীন সময়ে সে মঞ্চকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়েছিল। ঘটনার পর সে ঝিনাইদহে গমন করে এবং সেখানে আত্মগোপনে অবস্থান করতে থাকে।

ঘটনা পরবর্তীতে র‌্যাব জঙ্গি ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। ২০০৮ সালে জঙ্গি ইকবালকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশে ঝিনাইদহে তার নিজ বাড়িতে এবং পরবর্তীতে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় আত্মগোপনে থাকাকালীন সে নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিকশা মেকানিক ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল।

তিনি আরও জানান, সে ২০০৮ সালে দেশ ত্যাগ করে। প্রবাসে আত্মগোপন থাকাবস্থায় প্রথমে ‘সেলিম’ এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে। এক পর্যায়ে, সে প্রবাসে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে ২০২০ সালের শেষের দিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরত এসে জঙ্গি ইকবাল আত্মগোপনে থেকে সমমানদের সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করে।

উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (NSI) এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা জঙ্গি ইকবাল সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং জঙ্গি ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

-কেটি

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter