শত শত কৃষকের টাকা আত্মসাত করে স্বেচ্ছায় বদলী হন ভূমি কর্মকর্তা রাসেল

সারাদেশঃ

কাজ হোক আর না হোক, কৃষক বা যে কোন জমির মালিক যে কোন ভূমি সংক্রান্ত কাজে অফিসে এলেই আগে জমির কিছু কাগজপত্র হাতিয়ে নিয়েই বলে দেন কাজ হবে টাকা দেন। এমনই এক উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাসেল হোসেন।

রাসেল হোসেন নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা ভূমি অফিসের অধীনে চেরাগপুর-ভীমপুর ইউনিয়নের উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছিলেন।

জমির খারিজ, খাজনা, একসনা বন্দোবস্ত, জলমহাল ইজরার, হাটবাজার ইজারা ইত্যাদি ভূমি সংক্রান্ত কাজের জন্যই গ্রামের সরল মানুষদের শত ভাগ কাজের নিশ্চয়তা দিয়ে শত শত সাধারণ মানুষদের সঙ্গে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই রাসেল হোসেন।

টাকা চলে যায় ব্যাংকে আর কাগজ চলে যায় ময়লার ঝুরিতে।

কাগজ ও টাকা নিয়েই লম্বা সময় দেন গ্রহকদের, সেই নির্ধারিত সময়েই গ্রাহকরা অফিসে রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শুরু হয় রাসেলের নানান ফন্দি ফিকির, তাল বাহানা।

যখন বেশী চাপে পড়েন তখন জড়িয়ে দেন সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে। কাউকে বলেন এসি ল্যান্ড অফিসে ঠিক মত বসেন না, কানুনগো এতো কম টাকায় রাজি না, আবার কাউকে জানান আপনার জমি সমস্যা আমি কি করবো।

এভাবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমন কি বছরের পর বছর ঘুরতেই থাকেন সরল সাদা মানুষগুলো। কাজের কাজ কিছুই হয় না। পরিশেষে টাকা ফেরত চাইলে শুরু করেন হুমকি ধামকি, চান্দাবাজি মামলার হুমকি, এসি ল্যান্ড এর রেফারেন্স ইত্যাদি।

নওগাঁ শহরে রাসেলের বিলাসী জীবনের খবর অনেকেরই জানা, বিলাস ব্যাসনে চলাফেরা, বাহারি মোটরসাইকেল যার মূল্য ২ লক্ষ টাকার উপরে। বন্ধু মহলেও তার টাকা খরচের বিষয়ে বিরাট সুনাম রয়েছে।

চেরাগপুর-ভীমপুর থেকে বর্তমানে রাসেল হোসেন বদলী নিয়েছেন মান্দা উপজেলার পরানপুর-ভালাইন ভূমি অফিসে। সেই সুবাদে মান্দা উপজেলা এসি ল্যান্ড মুহাম্মদ ইমরানুল হকের সঙ্গে তার সব বেপরোয়া প্রতারণার কথা জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

রাসেলের সাবেক সহকর্মী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কালিপদ মালাকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রাসেল চেরাগপুরে নেই, তার সঙ্গে আমারও ভালো যোগাযোগ নেই। আমি তার ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter