সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ডিআরইউতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

সাগর-রুনির বিচারের চেয়ে ডিআরইউতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

গণমাধ্যমঃ
সাংবাদিক সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যার এক দশকেও বিচার না হওয়ার প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচির প্রথম দিনে মোমবাতি প্রজ্বলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ কার্যালয়ের সামনে রাত ১০টার দিকে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। কর্মসূচি চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।

মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব, সাগর-রুনীর সন্তান মেঘ, যুগ্ম সম্পাদক শাহনাজ শারমিন, অর্থ সম্পাদক এস এম এ কালামসহ ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটিসহ অন্যান্য সদস্যরা।

এক দশকে হত্যার বিচার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন ডিআরইউর সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু। তিনি বলেন, ১০ বছরের একটি মামলার সময় ৮৫ বার পেছানো হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক, জাতি হিসেবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত এই হত্যার বিচার চাই।

তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত এই হত্যার বিচার না হবে ততদিন পর্যন্ত বিচারের দাবিতে ডিআরইউ রাস্তায় থাকবে। এই হত্যার বিচার যদি না হয়, সেই ব্যর্থতার দায় আইনশৃঙ্খলাবাহীনির।

রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন, সকল সাংবাদিকদের মতো আমরাও বিচার চাই। কিন্তু বিচার কার কাছে চাইবো। বিচার চাইতে এখন আমাদের লজ্জা হয়। ১০ বছর পেরিয়ে গেলো এখনো আমারা বিচার পেলাম না। আদৌ বিচার পাবো কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যতদিন বেঁচে থাকবো হত্যার বিচার চেয়েই যাবো।

সাগর-রুনির দম্পতির একমাত্র ছেলে মেঘ বলেন, আমি আপনাদের মতো এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

এদিকে এক দশক পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু প্রকৃত হত্যাকারীদের এখনো সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়াও থমকে আছে। নিষ্ঠুর এই হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে ডিআরইউসহ গোটা সাংবাদিক সমাজ আজও সোচ্চার। প্রিয় দুই সদস্য হত্যার বিচারের দাবিতে এবারও ডিআরইউ তিন দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মোমবাতি প্রজ্বলন ছাড়াও কর্মসূচিতে রয়েছে শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় ডিআরইউ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ।

প্রসঙ্গত, ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনী নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন।

-টিপু

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter