সেরা রাঁধুনী গ্র্যান্ড ফিনালেতে জয়ী হলেন সাদিয়া তাহের

সেরা রাঁধুনী গ্র্যান্ড ফিনালেতে জয়ী হলেন সাদিয়া তাহের

লাইফস্টাইলঃ
অভিনব সব চ্যালেঞ্জে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সেরা তিনের অপর দুই প্রতিযোগী খুলনার নাদিয়া নাতাশা এবং ঢাকার মরিয়ম হোসেন নূপুরকে হারিয়ে এবারের সেরা রাঁধুনী ১৪২৭-এর বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রামের বিবিএ শিক্ষার্থী সাদিয়া তাহের।

নাতাশা দ্বিতীয় এবং নূপুর তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। ছয় মাসেরও বেশি সময়ব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

দেশের নানা প্রান্তের রন্ধনশিল্পীদের রান্নার প্রতিভার কথা সারাদেশকে জানানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ৬ষ্ঠ বারের মতো সেরা রাঁধুনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলো।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর। বিভাগীয় অডিশনের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে ২৮ জন নির্বাচিত হন।

গ্র্যান্ড অডিশনের পর তাদের ১৫ জনকে নিয়ে শুরু হয় মহামঞ্চের (স্টুডিও রাউন্ড) লড়াই। তার আগে বিভিন্ন বিষয়ের এক্সপার্টদের কাছ থেকে তাদের জন্য ছিলো প্রয়োজনীয় গ্রুমিং সেশন।

মহামঞ্চে একের পর এক অভিনব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। কখনো ছিলো নিখাঁদ দেশি রান্নার পরীক্ষা, কখনো বা তৈরি করতে হয়েছে বিদেশি রান্না, ছিলো মোগলাই রান্না, ইফতার-সেহরি তৈরির দক্ষতা যাচাই, রহস্যময় বাক্সের চ্যালেঞ্জ কিংবা চোখ বুজে স্বাদ নিয়ে রেসিপি বোঝার অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নাটকীয়তা তৈরির স্বার্থে এই পর্বগুলোর পরতে পরতে ছিলো প্রচুর চমক ও টুইস্ট। আর শুধু তাদের কুকিং স্কিলই না, রেসিপিগুলোর প্রক্রিয়া ব্যয় ও মূল্য নির্ধারণে তাদের পারদর্শিতাও যাচাই করা হয়েছে।

এরকম কঠিন নানা চ্যালেঞ্জ পার হয়ে নাতাশা, সাদিয়া ও নূপুর সেরা তিনে জায়গা করে নেন। এরপর কক্সবাজারে আরো দু’টো প্রফেশনাল চ্যালেঞ্জের (ফাইভ স্টার কিচেন সামলানোর ‘রেস্টুরেন্ট চ্যালেঞ্জ’ এবং ‘সি-ফুড চ্যালেঞ্জ’) মুখোমুখি হতে হয় তাদের। যার নম্বর নির্ধারণ করে চূড়ান্ত ফলাফল।

গ্র্যান্ড ফিনালেতে ছিলো বর্ণাঢ্য সব আয়োজন। প্রথমে ছিলো সারা বাংলার সেরা স্বাদের উপর নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাবের পরিচালনায় ধৃতি নর্তনালয়ের শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা।

সেটি শেষ হবার পর উপস্থাপক মারিয়া নূরের আমন্ত্রণে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব অঞ্জন চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে সকল প্রতিযোগীকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলার স্বাদ ও খাবারের কথা বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আয়োজিত গ্র্যান্ড ফিনালে আয়োজনে এসেছিলেন সেরা রাঁধুনীর মহামঞ্চের লড়াইয়ের জন্য নির্বাচিত ১৫ জন ও তাদের পরিবার-স্বজনেরা, সেরা রাঁধুনীর বিগত আসরগুলোর শীর্ষ প্রতিযোগীরা, দেশের বরেণ্য রন্ধন বিশেষজ্ঞরা এবং স্কয়ার-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

সেরা রাঁধুনী ১৪২৭-এর মহামঞ্চে অংশ নেয়া বাকি বারোজনের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক ও চেক তুলে দেন প্রতিযোগিতার তিন সম্মানিত বিচারক এক্সিকিউটিভ শেফ শুভব্রত মৈত্র, রন্ধন বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা, অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা এবং জনাব অঞ্জন চৌধুরী।

গ্র্যান্ড ফিনালের বর্ণাঢ্য আয়োজনে আরো ছিলো প্রিয় অভিনেত্রী তারিন জাহানের কুইজ শো, অভিনেতা সাজু খাদেমের কৌতুক আয়োজন এবং গানের দল ‘জলের গান’-এর পরিবেশনা।

ফলাফল ঘোষণার নাটকীয় পর্ব শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও স্মারক চেক তুলে দেন প্রতিযোগিতার তিন বিচারক, জনাব অঞ্জন চৌধুরী এবং স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জনাব মোঃ পারভেজ সাইফুল ইসলাম।

বিজয়ী হিসেবে সাদিয়া তাহের পেয়েছেন পনেরো লক্ষ টাকা, নাদিয়া নাতাশা পেয়েছেন দশ লক্ষ টাকা এবং মরিয়ম হোসেন নূপুর পেয়েছেন পাঁচ লক্ষ টাকা।

ক্রিয়েটিভ এজেন্সি হিসেবে সেরা রাঁধুনী ১৪২৭-এর পুরো আয়োজনটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলো মিডিয়াকম লিমিটেড।

ব্রডকাস্ট পার্টনার মাছরাঙা টেলিভিশনের সাথে সেরা রাঁধুনী ১৪২৭ আয়োজনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরো আছে রাঙামাটি ওয়াটারফ্রন্ট রিসোর্ট, এবিসি রেডিও, দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর ডট কম।

-কেএম

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter