হাসুমণির পাঠশালারআয়োজনে শেখ রাসেলের জন্মোৎসব অনুষ্ঠিত

হাসুমণির পাঠশালা আয়োজনে শেখ রাসেলের জন্মোৎসব অনুষ্ঠিত

অনলাইনঃ

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা রচিত ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ অবলম্বনে গোলটেবিল আলোচনা ও শেখ রাসেল ভার্চুয়াল গ্যালারী উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসাথে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘আঁক তোমার স্বপ্ন’ শীর্ষক শিশুতোষ চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে শিল্পীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারীতে রোবাবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে এই উৎসব আনন্দ-আয়োজন উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, এমপি এবং প্রধান আলোচক হিসেবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, এমপি ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক নিসার হোসেন, সিনিয়র ফটো সাংবাদিক পাভেল রহমান, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম প্রমূখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসুমণির পাঠশালা এর সভাপতি মারুফা আক্তার পপি।

সকালে জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু হয় মূল আয়োজন। এরপর ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু, শেখ রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আয়োজনের উদ্বোধনী বক্তব্যে আধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য হওয়া উচিত ছিল আনন্দের দিন, অথচ এই দিনটি আমাদের যেন শোকের দিন। কেননা ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেট ১০ বছরের ছোট্ট রাসেলকেও রেহাই দেয়নি। সেজন্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডে জড়িত অপরাধী, যারা এখনো বিদেশ পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুতবিচার সম্পন্ন করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, আমার ছোট বোন ও শেখ রাসেল একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার থেকে একাধিকবার শেখ রাসেলের কথা শুনেছি। শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধুর ছেলে হয়েও তার চলাফেরা ছিল খুব সহজ সরল। তার বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ ও আন্তরিকতা সকলকে মুগ্ধ করতো। শেখ রাসেলের বিভিন্ন শিক্ষকরাও বলেছেন, তাদের শিক্ষক জীবনে শেখ রাসেলের মতো শিক্ষার্থী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের শেখ রাসেলের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত, ছোট্ট একটা শিশু হয়েও সে কিভাবে শিক্ষকদের সাথে ব্যবহার করতেন এবং সকলকে সম্মান দিতেন। বঙ্গবন্ধু নিজেও শিক্ষকদের আলাদা মর্যাদা দিতেন। সুতরাং, আমাদের ভাবতে হবে, বঙ্গবন্ধু কোন আদর্শে চলতেন। আমাদের সেই আদর্শ মেনে চলা খুব প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অসুস্থ্য থকার কারণে তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দিন আহম্মদ এর মাধ্যমে ছোট্ট সোনমণিদের জন্য শুভেচ্ছা প্রেরণ করেন ও হাসুমণির পাঠশালার জন্য শুভকামনা করেন।

আয়োজনের প্রধান আলোচক উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়ির প্রতিটি মানুষ মানবিকবোধে গুণান্বিত। শেখ রাসেল মাত্র ১০ বছরের শিশু হয়েও সেই মূল্যবোধে তাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। তবে ঘাতকেরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করলেই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না। সেই প্রত্যাশায় তারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকেও ছাড় দেয়নি। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বরং বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা উভয়েই শেখ রাসেলকে খুব ভালোবাসতেন। সেই ভালোবাসা থেকেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা চাই আমাদের প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় বেড়ে উঠে।

অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম বলেন, শেখ রাসেল সব থেকে সম্ভাবনাময় একটি শিশু। সে বেড়ে উঠতে পারতো বাংলাদেশের হয়ে। আমরা তাকে হারিয়েছি অঙ্কুরে। তবে আমরা চাই বাংলাদেশের সকল শিশু যেন সাংস্কৃতিক মনোভাবে বেড়ে উঠে।

অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান বলেন, শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে আজ একজন সু-নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নতি করতে পারতেন। কিন্তু সেই সুযোগ আমরা হারিয়েছি। তবে সেই ছোট্ট শিশুর আদর্শে আমাদের শিশুরা বেড়ে উঠবে এবং দেশের উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথিরা এমন সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য হাসুমণির পাঠশালার সভাপতি মরুফা আক্তার পপিকে ধন্যবাদ জানান।

‘আঁক তোমার স্বপ্ন’ চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী তরুণ ঘোষ, শিল্পী সঞ্জীব দাস অপু, শিল্পী কিরিটি রঞ্জণ বিশ্বাস, শিল্পী জাকির হোসেন পুলক এবং সূচি শিল্পী ইলোরা পারভীন। অনুষ্ঠানে ‘আঁক তোমার স্বপ্ন’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এসময় বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে বই, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মধ্যে শিশু শিল্পী সৃজনী সাহা, তুনানজিনা তাসনিম শিকদার, জাকারি হোসাইন, রওজা তাসনিম, জুবাইদা হক অবনী, মাদিবা মায়াণী, মেহজাবিন রহমান, দেবপ্রিয় মজুমদরসহ বিভিন্ন জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। একইসাথে করোনা পরিস্থিতির জন্য অন্য বিজয়ীদের তাদের পুরস্কার পরবর্তীতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

ভার্চুয়াল এই প্রদর্শনীটি দেখা যাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের  Hasumonir Pathshala/group এ। প্রদর্শনীতে প্রায় দুই শতাধিক শিশুর চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে।

-শিশির

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter