হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে নানান কর্মসূচী

অনলাইন ডেস্কঃ

জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এ দিনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এ দিনটি উপলক্ষে গাজীপুরের পিরুজালী এলাকার নুহাশ পল্লীতে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

নুহাশ পল্লীর আশপাশের মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র, পরিবারের সদস্য এবং হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন লেখকসহ প্রায় ৬০০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ওই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা নুহাশ পল্লীতে কোরআন তিলাওয়াত করবে। পরে তারা কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নেবে। ওই দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে হুমায়ূন আহমেদের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিতসহ স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বৃহস্পতিবার সকালে নুহাশ পল্লীতে পৌঁছাবেন। এ ছাড়া কথা সাহিত্যিকের পরিবারের লোকজন, ভক্ত, বন্ধুরা কবর জিয়ারত ও মিলাদে যোগ দেবেন। এদিনে হিমু পরিবহনের কমপক্ষে ৬০ সদস্যের একটি দল হুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নুহাশ পল্লীতে আসবেন।

এরই মধ্যে প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নুহাশ পল্লীতে আসছেন। বিশেষ করে হুমায়ূন ভক্ত তরুণ প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থীরা নুহাশপল্লীতে ভিড় করছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকও আসছে নুহাশ পল্লীতে।

আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নুহাশ পল্লীতে প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। পিরুজালী এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে দুই শতাধিক শিশু কোরআন তিলাওয়াত করবে। ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মৃত্যুার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের আয়োজন চলছে। এতিম শিশু ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথি, এলাকার লোকজন ও হুমায়ূন স্যারের পরিবারের লোকজন থাকবে। বৃহস্পতিবার ভোরে হুমায়ূন স্যারের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও তার সন্তানরা নুহাশ পল্লীতে আসবেন। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।

ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল আরো জানান, নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় হুমায়ূন আহমেদের হাতেগড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠেও অনুরূপ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এদিন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বিদ্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংমগ্রহণ করবে।

বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাশিল্পী, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। ২০১১ সালে তাঁর অন্ত্রে ক্যানসার ধরা পড়ে। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামে নিজ হাতে গড়া নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় প্রয়াত কথা সাহিত্যিককে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

-ডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *