আরিফ বিজয়ের ঘোষণা চান

অনলাইন রিপোর্টঃ

সিলেটে সিটি নির্বাচনে স্থগিত হওয়া দুটি ভোট কেন্দ্রে সব ভোট আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পেলেও বিজয়ী হবেন বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

এমন কঠিন সমীকরণেও হাইকমান্ডের নির্দেশে দুটি কেন্দ্রের ভোটারের কাছে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সঙ্গে প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানও। এ দুটি কেন্দ্রের ভোটারের কাছে তারা প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

তবে- এরই মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থকরা দুটি কেন্দ্রের সব ভোটারের হিসাব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে- ৩০১ জন ভোটার এলাকাতেই নেই।

মৃত্যু ও প্রবাসে বসবাস এবং চাকরিতে বদলির কারণে এরা ভোট দিতে পারবেন না। সেই হিসেবে তার বিজয় নিশ্চিত। গতকাল বিকালে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ৩০১ জনের তথ্য দিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

এ সময় তিনি লিখিতও দেন। তার এ দাবির জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন- তিনি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না। পত্রটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন- স্থগিত দুই কেন্দ্রের সব ভোট কামরান পেলেও কামরান বিজয়ী হতে পারছেন না। কারণ, তখনও আরিফ ১৪০ ভোটে এগিয়ে থাকবেন।

নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। নৌকা প্রতীকে কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৪ হাজার ৬২৬। স্থগিত ওই দুই কেন্দ্রে ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৭। এর মধ্যে মারা গেছেন ও প্রবাসে রয়েছেন ২৯৮ জন। চাকরির কারণে আরো তিনজন বদলি হয়েছেন। সেই হিসেবে দুই কেন্দ্রে ভোটের দিন ৩০১টি ভোট কাস্ট না হওয়ারই কথা। এগুলো বাদ দিলে এই ওয়ার্ডে ভোটসংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪৮৬টি। এগুলোর সবও যদি কামরান পেয়ে যান তবুও তিনি বিজয়ী হতে পারবেন না।

কারণ, তখন আরিফ কামরানের চেয়েও ১৪০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন। ভোটের এই সমীকরণ নিয়ে গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামানের কাছে দেয়া পত্রে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক উল্লেখ করেছেন- স্থগিত হওয়া গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটারের মধ্যে মারা গেছেন ৮০ জন ও বিদেশে আছেন ৮০ জন। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২২২১, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার-১১৫৩ ও মহিলা ভোটার-১০৬৮ জন। হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ২৫৬৬। মোট ২৫২৬ ভোটারের মধ্যে মারা গেছেন ৩৮ জন ও বিদেশে আছেন ১০০ জন, চাকরিজনিত কারণে বদলি হয়েছেন ৩ জন। যেহেতু দুটি কেন্দ্রে ৩০১ জন ভোটার অনুপস্থিত সুতরাং সেখানে আর কোনো পুনঃভোটের প্রয়োজন নেই। এই হিসেবের প্রেক্ষিতে তাকে বিজয়ী করার দাবি জানান তিনি। রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান আরিফুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে পত্র সমঝে বিষয়টি তারা দেখবেন বলে জানান। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আরিফ। বলেন- ভোটের হিসেবে সব ভোট আওয়ামী লীগ পেলেও তিনি অনেক ভোটে এগিয়ে থাকবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান- আরিফুল হক চৌধুরী যে লিখিত পত্র দিয়েছেন সেটি তিনি গ্রহণ করেছেন। এবং সেটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। তিনি বলেন- স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। ভোটের দিন সকালে ওই দুটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। এ ছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের এই ফলাফলে তারা সন্তুষ্ট নন। ফলের ভোট গণনাকালেই তারা বিজয়ের হাল ছেড়ে দেন। এমনকি ফলাফল ঘোষণাকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাননি আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানও। ১৩২ কেন্দ্রের ফলাফলের পরও দলীয় প্রধানের নির্দেশে ভোটের মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে গত দুই দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুটি কেন্দ্রের এলাকার ভোটারদের নিয়ে তারা মতবিনিময় করেছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানও ছিলেন।

আরবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *