রাবিতে ‘দহন’ সিনেমা বন্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত-৭

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাণিজ্যিক সিনেমা ‘দহন’ বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান উপস্থিততে মিলনায়তনের ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসাভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার বাণিজ্যিক সিনেমা ‘দহন’ বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শন করার কথা ছিল। কিন্তু তা ক্যাম্পাসের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও বহিরাগতদের আগমনে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার বিঘœ ঘটার আশংকায় দুপুর বারোটা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সিনেমাটি বন্ধের দাবিতে মিলনায়তনের সামনে অবস্থান নেয়।

কিন্তু প্রক্টর তাদের অবস্থান থেকে সরে যেতে বললে তারা মিলনায়তনের ফটক থেকে সরে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এক পর্যায়ে প্রক্টরের সাথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাকবিতন্ডতা শুরু হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের গায়ে হাত তুলেছে এই অপরাধে আন্দোলকারীদেরছাত্রলীগের নেতারা এলোপাথারি কিলÑঘুষি মারতে শুরু করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিকের গায়েও হাত তুলে তারা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় ৭ জন শিক্ষার্থী আহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি আছেন। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আলী ইউনুস হৃদয়, রাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক মহব্বত হোসেন মিলন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিল হোসেন, প্রচার সম্পাদক মিঠুন চন্দ্র মোহন্ত, ছাত্র ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক ইসরাফিল, কর্মী রাশেদ রিমন, কর্মী আশরাফুল আলম। এদের মধ্যে মিঠুনের হাত ভেঙ্গে গেছে।
অপরদিকে মারধরকারীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুন জামিল সুস্ময়, ইমরান খান নাহিদ, মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক ফেরদৌস মাহমুদ শ্রাবণ, কর্মী শেখ সিয়াম, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজাসহ বহিরাগত বেশ কয়েকজন।

মারধরের বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী শাকিলা খাতুন বলেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুনুর নির্দেশেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। প্রক্টর সেখানে উপস্থিত থাকলেও সে এগিয়ে আসেননি। তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। মারধরকারীদের ঠেকাতে গেলে তারা এক সাংবাদিককেও মেরেছে।’

মারধরের ব্যাপাওে সাংবাদিক হৃদয় বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাদের মারধর করতে দেখে আমি তাদের আটকাতে যাই। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকলেও সুস্ময় আমাকে লাথি মারে।’

এ ব্যাপারে রাবি প্রক্টর বলেন, শিক্ষার্থীরা দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল আমি গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়ে সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করি।

সাংবাদিকসহ ৭জনকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমার সামনে মারধর ঘটেনি, তাই বলতে পারি না।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া মারামারির বিষয়টি অস¦ীকার করে বলেন, মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি। মূলত বাম সংগঠনসহ মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থীরা সিনেমাটি প্রদর্শন করতে দেয়নি। তারা প্রক্টরকে লাঞ্চিত করতে চাইলে আমরা তার প্রতিবাদ করি।

এদিকে সাংবাদিক মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আসলে সাংবাদিককে মারধরের কোন ইচ্ছা থেকে এই ঘটনা ঘটে। হয়তো ধস্তাধস্তির সময়ে আঘাত লাগতে পারে।