ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ সুনামি, নিহত ৪৩

আন্তর্জাতিকঃ ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালীর কাছে সুনামির পর কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত এবং ৫৮৪ জন আহত হয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার ‍দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং কয়েক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকার।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সাগরের নিচে হওয়া ভূমিধস থেকে সৃষ্ট সুনামির সম্ভাব্য কারণ ক্রাকাটোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। জাভা সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযোগকারী সুন্দা প্রণালী জাভার দ্বীপ ও সুমাত্রার মধ্যে অবস্থিত।

স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই সুনামি আঘাত হানে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনবিপি)-র মুখপাত্র সুতপো পুরউ নুগরোহো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মূলত সুন্দা প্রণালির কিনারা ঘেঁষা পানদেগলাং, দক্ষিণ লামপুং ও সেরাঙ্গ সৈকতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিম জাভার পানদেগলাং জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আহত হয়েছেন ১৫০ জন। ৪৩টি বাড়ি, নয়টি হোটেল এবং কয়েক ডজন গাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ণিমার কারণে ঢেউয়ের শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে থাকতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধানের পোস্ট করা সুনামির পরবর্তী এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পানিতে রাস্তাঘাট ভেসে গেছে এবং একটি গাড়ি উল্টে রয়েছে।

এর আগে তিনি আরও একটি ভিডিও পোস্ট করেন, সেখানে দেখা যায় পানি ধেয়ে আসছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে পালানোর চেষ্টা করছে।

জরুরি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আনাক ক্রাকাটোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেই ওই সুনামি হয়েছে কিনা সেটি তারা খতিয়ে দেখছেন।

আগ্নেয়গিরিবিদ জেস ফিনিক্স বিবিসিকে বলেন, যখন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়, তখন গরম ম্যাগমা মাটির নিচে ঢুকে যায় এবং তা স্থানচ্যুত করতে পারে এবং ঠাণ্ডা পাথর ভেঙে ফেলতে পারে। এ কারণে ভূমিধসের সৃষ্টি হতে পারে।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, কিন্তু যেহেতু ক্রাকাটোয়ার কিছু অংশ পানির নিচে অবস্থিত, তাই একটি স্বাভাবিক ভূমিধস ঘটার পরিবর্তে, সাগরের নিচে ভূমিধস হয়েছে যা পানিকে অন্যত্র সরে যেতে ধাক্কা দিয়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেই ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের কাছে একটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ওই ভূমিকম্পের ঘটনায় উপকূলীয় শহর পালুতে সুনামিও আঘাত হানে এবং প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।