মন্ত্রীর রাজনৈতিক এপিএস নিয়োগ বন্ধ

অনলাইনঃ
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিবেচনায় সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নিয়োগ বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার।

ক্যাডার সার্ভিস বা নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এপিএস নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা তাদের পছন্দমতো একান্ত সচিব (পিএস) নিয়োগ দিতে পারবেন না। সরকারের তৈরি করা প্যানেল তালিকা থেকে পিএস নিয়োগ করতে হবে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে একটি খষড়া প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

খষড়া অনুমোদনের আগে কাউকে পিএস বা এপিএস নিয়োগ দেয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল একাধিক মন্ত্রী তাদের পছন্দসই কর্মকর্তাকে (সিনিয়র সহকারী সচিব/উপসচিব) একান্ত সচিব পদে নিয়োগ দিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠান।

এছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় এপিএস নিয়োগ করার অনুরোধ জানিয়ে ডিও লেটার দেয়া হয়। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য জনপ্রশাসন সচিবকে ফোন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানানো হয়, পিএস পদে নিয়োগ দিতে একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানোর কথা রয়েছে। এতে পিএস বা এপিএস পদে নিয়োগ দেয়া যায় এমন কর্মকর্তাদের নাম থাকবে।

ওই তালিকায় কারও নাম না থাকলে পিএস বা এপিএস করা যাবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় সরকার দেখেছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিপ্রায় থাকায় স্বাধীনতাবিরোধীদের পরিবার থেকে পিএস বা এপিএস পদে অনেকেই নিয়োগ পান। ভবিষ্যতে পোস্টিং, পদোন্নতি বা নানা সুবিধার জন্যই এসব কর্মকর্তা পিএস বা এপিএস হয়ে থাকেন। এমন চিন্তা মাথায় রেখেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। স্বচ্ছ ইমেজ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কর্মকর্তা ছাড়া কাউকেই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস) বা সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পদে নিয়োগ করা যাবে না। এ ছাড়াও মন্ত্রীর ছত্র ছায়ায় থেকে রাজনৈতিক এপিএসরা বিপুল পরিমানে অর্থ সম্পদের মালিক বনে যান।

এজন্য বিভিন্ন ধরনের যাচাই বাছাই শেষে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকায় ক্যাডার সার্ভিসের বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। এদিকে গত সোমবার শপথের পরই পিএস/এপিএস হতে আগ্রহী বিভিন্ন ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। তারা নিজের নাম তালিকাভুক্ত করতে চেষ্টা তদবির শুরু করেন। গতকাল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনেই পিএস ও এপিএস পদে নিয়োগ দিতে বেশ কয়েকটি ডিও লেটার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে যায়। তবে আপাতত এসব ডিও লেটারের বিপরীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না।

-আরবি

Print Friendly, PDF & Email