পান চাষিরা কোনও ঋণ পান না

কৃষি সংবাদঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় শত বছর ধরে পান চাষ হয়। অন্যান্য ফসলের সঙ্গে এসব গ্রামে পান চাষ কৃষকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

জানা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া, দাউদপুর, মাহমুদপুর ও কুশদহ ইউনিয়নে পান চাষ হয়ে থাকে। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এখানে পান উৎপাদন ভালো হয়।

এদিকে বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া, দামদরপুর, রণগাঁর, রামচন্দ্রপুর ও দাউদপুর গ্রামের পানচাষিরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। এখানকার চাষিরা বংশ পরম্পরায় পান চাষ করছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৬.৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির পান চাষ হয়েছে। বরজের সংখ্যা ৬৫টি। পান চাষে বেলে ও দোআঁশ মাটি উপযোগী হওয়ায় এখানে চাষ বেশি হয়ে থাকে। এখানকার শতকরা ৮০ জন কৃষক পান চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে পান চাষে বেশি রাসায়নিক সার ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

এদিকে বিরামপুরের পান এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিরামপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের পান চাষি আতারুল মেম্বার জানান, অনেক আগে থেকেই আমরা পান চাষ করে আসছি। অন্যান্য ফসলের চেয়ে পান চাষ আমাদের কাছে লাভজনক।

চৌঘরিয়া গ্রামের নাসির উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে পানের ব্যাপক চাহিদা ও বাজারমূল্য রয়েছে। এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেয়ায় আগের চেয়ে পান চাষে উন্নতি হচ্ছে।

চাষিদের অভিযোগ সরকারি ব্যাংকে কৃষিঋণের ব্যবস্থা থাকলেও পান চাষিরা কোনও ঋণ পান না। এছাড়া পান চাষের ওপর প্রশিক্ষণ না থাকায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এবার এই উপজেলায় ৬৯.৫৫ মেট্রিক টন পান উৎপাদিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। পান চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। তারা যেন ব্যাংক ঋণ পান এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।

-এসডি

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter