বন্দুক যুদ্ধে ৩ রোহিঙ্গা নারী নিহত

অনলাইনঃ

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় এক রোহিঙ্গা নারীসহ তিনজন ‘ইয়াবা কারবারি’ নিহত হয়েছেন। 

রোববার ভোরে উপজেলার হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ও দমদমিয়া নাফ নদীর ওমরখাল এলাকায় বিজিবির সঙ্গে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এই প্রথম টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় কোন নারীর মৃত্যু হয়েছে। 

নিহতরা হলেন- হ্নীলা ইউনিয়নের আলী আকবর পাড়া এলাকার মিয়া হোসনের ছেলে মাহামুদুর রহমান (২৮), হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আফছার (২৫) ও লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের সি বল্কের বদরুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা আকতার (২০)। রুমানা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়। 

পুলিশ ও বিজিবির ভাষ্য মতে, নিহতরা সবাই ইয়াবা ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি এলজি বন্দুক, ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১৮টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ-২ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। 

টেকনাফ ২ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, ভোরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে কয়েকজন টেকনাফের দমদমিয়া ওমরখাল এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় বিজিবি তাদের থামার সংকেত দেয়। কিন্তু বিজিবির সংকেত অমান্য করে উল্টো বিজিবি টহল দলের ওপর অতর্কিতে গুলি বর্ষণ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ১০-১৫ মিনিট গোলাগুলি হয়। অস্ত্রধারীরা গুলি করতে করতে খালের কিনারা দিয়ে পালিয়ে যায়। 

তিনি আরও জানান, গুলির শব্দ থামার পর টহলদলের সদস্যরা এলাকা তল্লাশি করে নৌকায় একজন নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা তাকে রোহিঙ্গা নারী বলে শনাক্ত করেন। এ সময় ১০ হাজার পিস ইযাবা ও তিনটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজন বিজিবির সদস্য আহত হন। নিহতের মরদেহ টেকনাফ থানার মাধ্যমে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ভোর রাতে হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকায় একদল কারবারির ইয়াবা লেনদেন করার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলির পর ইয়াবা কারবারিরা পিছু হটে। ঘটনাস্থল থেকে মাহামুদুর রহমান ও মোহাম্মদ আফছারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের কক্সবাজারে পাঠান। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি এলজি বন্দুক, ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১৮টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় টেকনাফ থানা পুলিশের একজন এসআইসহ তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন। নিহতদের বিরুদ্ধে ৫-৬টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।