শেখ হাসিনাকে বৃত্তে বন্দী করে ফেলেছে

মিলি সুলতানা, কুইন্স, নিউইয়র্ক থেকেঃ
গত কয়দিন থেকে সোশাল মিডিয়ায় ছেয়ে যাওয়া একটা ছবি আমাকে খুব ইরিটেট করছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ৩৫ লাখ টাকার বিশাল অংকের চেক তুলে দিয়েছেন আহমেদ শরীফের মত এক অসভ্য গুন্ডা মার্কা ব্যক্তির হাতে।

ছোট বেলায় সিনেমায় দেখেছি আহমেদ শরীফের লাম্পট্যের অভিনয়। সিনেমার পর্দায় ধর্ষণ ছাড়া আর কিছুই করতে জানতো না এই ব্যক্তি। আহমেদ শরীফ অসভ্যের একশেষ — যেদিন সে বলেছিল, “বঙ্গবন্ধু যদি জাতির পিতা হয় তাহলে আমি কার সন্তান?” লোকটাকে আমার ঘেন্না লাগে। তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন মেহেরুন নামের এক যুবতীকে।

মেহেরুনকে বিয়ে করার কারণে তার প্রথম সংসারের সন্তানদের সাথে চরম বিরোধ শুরু হয়। শরীফ সাহেব যুবতী স্ত্রীসহ আমেরিকায় এসে আস্তানা গাড়েন। নিউইয়র্কে কিছু অনুষ্ঠানে এই বদলোকটাকে আমি কয়েকবার দেখেছি।কম্যুনিটির কিছু নাখান্দা নালায়েকদের (নারী পুরুষ) দেখেছি তার গায়ের সাথে ঠেলাঠেলি করে ছবি তুলতে। আহা, কি মজা আহমেদ শরীফের পাশে।যেন লেবেঞ্চুস ঝুলছে চারপাশে।

বঙ্গবন্ধুকে গালি দেয়া বর্বর আহমেদ শরীফ ভিক্ষার ঝুলি কান্ধে নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার পায়ের উপর গিয়ে পড়েছে। বহুত বিরাট লবিং করে ৩৫ লক্ষ টাকা খয়রাতি সাহায্য পেয়েছে। অসুখের নাম করে তিনি যে টাকা পকেটে ঢুকিয়েছেন, সে টাকা আদৌ কি তিনি ডিজার্ভ করেন?? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই টাকা কাকে দান করলেন? ২১শে আগষ্টের ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলায় আহত অসংখ্য ত্যাগী কর্মীরা আজো তাদের শরীরে Splinter এর অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।অর্থের অভাবে তাদের সংসার চলেনা। তাদের কথা শেখ হাসিনার স্মরণে নেই কেন? আহমেদ শরীফের অর্থিক অবস্থা মন্দ নয়। তার স্ত্রী মেহেরুন আহমেদকে দেখেছি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।মহিলা সিনেমার নায়িকাদের মত গ্ল্যামার মেনটেইন করেন। তার পরনের দামী দামী শাড়ি ও জুয়েলারী দেখে বুঝেছি এইসব গ্ল্যামারাস বেশভূষা আয়ত্ব করা মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আহমেদ শরীফ ১২ মাসে ১৩টি পার্টি আয়োজন করার মত আর্থিক ক্ষমতা রাখে। পার্টিতে এই উগ্র জুটির উদ্দামতা, নেশা করার ব্যাপারটা ডালভাতের মত। অনেকেই জানে, কিন্তু মুখ খুলছে না কেউ।আহমেদ শরিফ ও মেহেরুন নিয়ে নিউইয়র্কের দাঁতাল চামচারা মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বসে আছে। একটা সত্যি কথা আছে, ভন্ডরাই ভন্ডের অনুসারী হয়। আওয়ামী লীগে দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে।এই চক্রটি শেখ হাসিনাকে সুকৌশলে একটি বৃত্তে বন্দী করে ফেলেছে।

ভন্ড আহমেদ শরীফ কোন পার্টি উগ্র জলসা মিস করেনা। মদ আর নারী যেখানে আহমেদ শরীফও সেখানে। ভন্ড লোকটা সরকারী খরচে হজও পালন করেছে শুনলাম।সুবিধাবাদী কেউটেসাপরা শেখ হাসিনাকে অক্টোপাসের মত আষ্টেপৃষ্ঠে গ্রাস করে ফেলছে। আহমেদ শরীফ কোন মরার অসুখে ভুগছে আমরা জানিনা। কিন্তু বারবার হতভম্ব হই কিভাবে তার হাতে ৩৫ লাখ টাকার অনুদান যায়?? শেখ হাসিনা কাদের ইন্ধনে এসব আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?? যারা অভাবী তাদেরকে সাহায্য করা উচিত। না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে যারা তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। বাংলাদেশে গেলেই শরীফ দম্পতি পার্টির আয়োজন করে। যেখানে মৌমাছির মত ভনভন করে ছোটেন আমাদের দেশের নায়ক নায়িকা গায়ক গায়িকা মডেল এবং সুরকাররা। তার আর্থিক অবস্থা খারাপ — এসব আষাঢ়ে গল্প শেখ হাসিনাকে খাওয়ানো গেলেও সচেতন মানুষদের খাওয়ানো যাবেনা।

আহমেদ শরীফ অতীতকাল থেকেই বিলাসী জীবন যাপন করে আসছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তেলা মাথায় তেল দিচ্ছেন। খুবই বিপদজনক সিদ্ধান্ত। এখনই যদি তিনি সতর্ক না হোন, বিপদ থেকে বাঁচার আর কোন উপায় থাকবেনা। বন্ধ করতে হবে অপাত্রে দান করার কালচার। চলচ্চিত্র জগতে বহু অভাবী ব্যক্তি আছেন। এসব সাহায্য সত্যিকারভাবে তারা ডিজার্ভ করে। তাদেরকে সাহায্য করুন। কিন্তু আহমেদ শরীফের মত কেউটেসাপদের নয়।

শোনা গেছে আহমেদ শরীফের স্ত্রী মেহেরুন নিজে স্টার না হলেও স্টার্ডম (Stardom) বিলাসী। ফিগারের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য তার নাকি কসমেটিক সার্জারী ও প্লাস্টিক সার্জারী করার সাধ জেগেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অনুদানের মোটা অর্থ মেহেরুনের ফিগারের সৌন্দর্য রক্ষার কাজে ব্যয় করার গোপন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সবশেষে বলবো, শেখ হাসিনা আপনি মারাত্মক ভুল করেছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করুন। বসন্তের কোকিলদের ডানা মুচড়ে ভেঙ্গে ফেলুন।

-এসএম

Print Friendly, PDF & Email