ইংলিশ মিডফিল্ডার ’হামজা’ বাংলারই সন্তান!

বয়স মাত্র ২১, এই বয়সেই ডিফেন্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে ইংলিশ ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী।

হামজা দেওয়ান চৌধুরীর জন্ম ইংল্যান্ডের লিস্টারশায়ারে হলেও তিনি একজন বাংলাদেশি।

হামজার বাবা গোলাম মোর্শেদ চৌধুরী ও মা রাফিয়া চৌধুরী দুজনই বাংলাদেশি। পৈত্রিক নিবাস হবিগঞ্জ জেলার বহুবল উপজেলায়। কিন্তু হামজার বাবা-মা অনেক আগ থেকে ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। সেই সূত্রেই তার ইংল্যান্ডে জন্ম। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই বাংলাদেশি ছেলেটা এখন ইংলিশ ফুটবলের বড় তারকা।

মা রাফিয়া চৌধুরী জানালেন, ফুটবল সেই ছোট্টটি থেকেই টানত হামজাকে। ফলে চার বছর বয়সেই ফুটবল ক্লাবে ভর্তি করে দেওয়া হয়। পাঁচ বছর বয়সে যখন তাকে লাফবারা ক্লাবে ভর্তি করা হলো হামজা তখন তার চেয়ে দু-এক বছরের বড়দের সঙ্গে খেলতেন। বয়স যখন মাত্র ছয় তখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জেতা ক্লাব লেস্টার সিটির অনুসন্ধানী টিমের নজরে পড়েন হামজা। ইংল্যান্ডের আরেক ক্লাব নটিংহাম ফরেস্টের নজরেও পড়েন তিনি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি হামজাকে।

লেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তি করেন। তার পড়াশুনার ভারও নিয়ে নেয় লেস্টার সিটি। পরে হাজমার কথা ভেবে লাফবারা শহর ছেড়ে লেস্টারে চলে আসে তার পরিবার। আস্থার প্রতিদানও ভালোভাবেই দিয়েছেন হামজা।

টিম ম্যানেজমেন্টকে মুগ্ধ করে মাত্র ১৮ বছর বয়সে লিগ ওয়ানে অভিষেক হয় তার।

২০১৭-১৮ মৌসুমে লেস্টার সিটির হয়ে ঐতিহাসিক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আট ম্যাচ খেলে ফেলেন হামজা। এবারের মৌসুমেও এখন পর্যন্ত খেলে ফেলেছেন আটটি ম্যাচ। এর আগে ধারে ইংল্যান্ডের অপর ক্লাব বার্টন অ্যালভিয়নে গিয়েছিলেন। সেখানে লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছেন।

ইংল্যান্ডের হয়েও খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশি তরুণের। চলতি বছরের ২৬ তারিখে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলে অভিষেক হয়েছে হামজার। ইতোমধ্যে মেক্সিকো, বাহরাইন, আলজেরিয়া, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দলের বিপক্ষে খেলে ফেলেছেন। ডিফেন্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে শিগগিরই হয়তো ইংল্যান্ড জাতীয় দলেও দেখা যাবে বাংলাদেশের হামজাকে।

হামজার উত্থান নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবলেও বেশ চর্চা হচ্ছে। বাংলাদশে ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘এটা খুবই ভালো খবর যে বাংলাদেশি একটি ছেলে ইংল্যান্ড মাতাচ্ছেন। হামজা একজন দারুণ প্রতিভাবান ফুটবলার। তার কারণে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। আশা করছি তার থেকে নতুন প্রজন্ম উৎসাহ পাবে।’

Print Friendly, PDF & Email