জাবি’র ছাত্রলীগ নেতা ও শিক্ষকদের মোবাইল বিচ্ছিন্ন!

শিক্ষাঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নির্দিষ্ট’ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কিভাবে এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা না গেলেও মঙ্গলবার তাদের ফোন থেকে কোন ধরনের সংযোগ পাওয়া যাচ্ছেনা বলে ভুক্ত ভোগীরা অভিযোগ করে।

আর এই সমস্যার পেছনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ক্যালেংকারী সংক্রান্ত ইস্যু জড়িত বলে গুঞ্জন উঠেছে।

জাবি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগির নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলায় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনকে মুঠোফোনে হুমকি দেয়া হয়েছিলো। তিনি গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথাও বলেন। সাদ্দামসহ তিন ছাত্রলীগ নেতার মুঠোফোনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দাম এসব কথা জানান।

সাদ্দাম বলেন, ‘আজ আমাকে কে বা কারা মুঠোফোনে ক্যাম্পাস থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। তা নাহলে খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে বলেও জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এখন আমার মুঠোফোনের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের মুঠোফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে সব শিক্ষকের ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন, উপাচার্য বিরোধী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির, চলমান দূর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ আন্দোলনে যুক্ত নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, দর্শন বিভাগের শিক্ষক রায়হান রাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা ও অধ্যাপক তারেক রেজা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে মানুষের যোগাযোগকে রুদ্ধ করাটা অন্যায়৷ এটা রাষ্ট্র তখন করতে পারে যদি রাষ্ট্রবিরোধী কিছু করা হয়৷ কিন্তু যারা একটা অনিয়মের তদন্ত চাচ্ছে তাদের প্রতি এই ধরনের আচরণ সভ্য দেশে কাম্য হতে পারে না৷’

আরও পড়ুঃ

রাব্বানী পদত্যাগ না করলে ব্যবস্থাঃ ভিপি নূর

অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতার নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘যারা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু তাদেরকেই নিরাপত্তা দিবে। কিন্তু যারা বর্তমান শিক্ষার্থী না, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রশাসনের না।’

-কেএম

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter