সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাই কমাতে পারে দুর্ঘটনা

অনলাইনঃ
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়া এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ০৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ, রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়, সোনারগাঁ সিগন্যাল (সার্ক ফোয়ারা- কাওরান বাজার), মালিবাগ চৌধুরীপাড়া (আবুল হোটেল সংলগ্ন), মহাখালী রেলগেইট, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মোড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম করছে বাংলাদেশ স্কাউটস ও ‘ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’।

এসময় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বিষয়ে সচেতনতা, ফুটওভার ব্রিজ এবং জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়। যাতে করে দেশে প্রতিনিয়ত যে অসচেতনতার কারণে নানান দুর্ঘটনা ঘটছে তা কিছুটা হলেও কমে আসে। রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ পাচঁটি স্থানে বাংলাদেশ স্কাউটের প্রায় ছয় শতাধিক (৬০০) কিশোর-কিশোরীরা এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।

দেশের মানুষের মাঝে পরিচ্ছন্নতার অঙ্গীকার বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা, চারপাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব সম্পর্কে জানানোর জন্য গত এক মাস ধরে কাজ করছে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে। ঢাকাবাসী যেন সচেতনতার অভাবে ডেঙ্গু, ফুটওভার ব্রিজ এবং জেব্রা ক্রসিং এর ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনার স্বীকার না হয় তার জন্য বাংলাদেশ স্কাউটস রাজধানীর ২৫টি রাস্তার মোড় এবং ২৫টি স্কুল প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কাজ করে। এসময় প্রায় দেড় লক্ষ সাধারণ জনগণসহ শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে রাজধানীর কাওরান বাজার থেকে প্রিয়াংকা বলেন,‘‘মানুষের মাঝে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগ আসলেই প্রশংসার। মশাবাহিত রোগ ধ্বংস করতে এ ধরনের কাজ কার্যকর হবে বলে আমার মনে হয়। পাশাপাশি সরকার কেউ এগিয়ে আসতে হবে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন তৈরি করে এবং ব্যবহারের জন্য আইনের প্রয়োগও করা যেতে পারে।’’

সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড় থেকে খাইরুল নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘এধরনের উদ্যোগ শুধু ঢাকাতে হলেই চলবে না। সারা দেশেই এই পরিচ্ছন্নতার কথা ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হবে এবং মানুষকে উৎসাহি করে গড়ে তুলতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকেও এই সচেতনতা বাড়াতে হবে।’’

সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে সায়মা রহমান বলেন, ‘‘এই সচেতনতা সবসময়ই চালিয়ে যেতে হবে। কিছুদিন করে বন্ধ করে দিলে হবে না। মানুষের মুখে মুখে যেন এই সচেতনতা তৈরি হয় সেই ভাবে কাজ করতে হবে। এজন্য দেশের সকল মানুষের সাথে বিভিন্ন সংগঠনকেও এগিয়ে এসে সচেতনতায় কাজ করতে হবে।’’

সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে রাজধানীর মহাখালী রেলগেইট থেকে সাব্বির রহমান বলেন, ‘‘সচেতনতার অভাবে প্রায়ই ঢাকা শহরে বিভিন্ন ভাইরাস বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। যাতে কয়েক হাজার মানুষ এসব ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা যদি সচেতন থাকি তাহলে এ ধরনের ভাইরাস বাহিত রোগ আসতে পারবে না। এছাড়াও রাস্তায় দুর্ঘটনা কমাতে আমাদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যাবহার করা প্রয়োজন।’’

সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মোড় থেকে আব্দুর রহিম বলেন, ‘‘আমরা যদি পরিস্কার থাকি তাহলে আমাদের সন্তানরা ভালো থাকবে। সেই জন্য আমাদের সচেতন হয়ে উঠতে হবে। তার জন্য সবাইকে অঙ্গীকার করতে হবে যে কোন দিন কোন জায়গায় ময়লা ফেলবো না এবং কাউকে দেখলে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দিবো।’’

সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে বাংলাদেশ স্কাউটস এর পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন,‘‘ বাংলাদেশ স্কাউটস গত একমাস ধরে রাজধানীবাসীর মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। শুধু বাংলাদেশ স্কাউটস কাজ করলে হবে না এর সাথে দেশে যত সংগঠন আছে তাদেরকেও কাজ করতে হবে। তাহলে হয়তো মানুষের মাঝে সচেতনতা গড়ে উঠবে। আমাদের মাঝে যে বিভিন্ন রোগ বালাই সৃষ্টি হচ্ছে তার কারণ আমাদেরকেই বের করতে হবে এবং সেই বিষয়ে কাজও করতে হবে।’’

সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক মোঃ রাকিব উদ্দিন বলেন, ‘‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিগত তিন বছর থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। এখন যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ স্কাউটস। তাদের সহযোগিতায় রাজধানী ২৫টি স্কুল এবং ঢাকাতে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি, এছাড়াও ঢাকার বাইরে চাঁদপরে ৩টি এবং গোলগঞ্জে ২টি জায়গায় এই সচেতনতার মাধ্যমে প্রিয়জনদের নামে অঙ্গীকার করানো হবে।

এছাড়াও ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বিষয়ে সচেতনতা, ফুটওভার ব্রিজ এবং জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। যাতে করে সচেতনতার অভাবে কাউকে অকালে জীবন না হারাতে হয়।’’

গত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু হয়। ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, এমপি ।

পরে শাহাবাগ মোড়, নীলক্ষেত মোড়, কাকরাইল মোড়, টিএসসিতে বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যরাসহ প্রায় ২০০০ মানুষ পরিচ্ছন্নতার অঙ্গীকার করে। ৪ সেপ্টেম্বর আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, এমপি। ভবিষ্যতের সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০০ জন ছাত্রীদের পরিচ্ছন্নতার শপথ পাঠ করান। ১২ সেপ্টেম্বর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ ও টিএন্ডটি হাইস্কুলে পরিচ্চন্নতার অঙ্গীকারে প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রায় ১০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরা ১১নং চৌরাস্তা মোড় (জমজম টাওয়ার), কাকলি বাস স্ট্যান্ড, মৌচাক মোড়, ভিক্টোরিয়ার মোড় (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ডে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান-১ গোলচত্বর, আশকোনা ও দক্ষিন খান রোড (২) এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন, মিরপুর-১৪, গুলশান-২ গোলচত্বর, শ্যামলী সিনেমা হল সার্কেলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম করে।

-শিশির

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter