যুবলীগ নেতা সম্রাট হাসপাতালে

অনলাইনঃ
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বুকে ব্যথা অনুভব করায় তাকে জেলখানা থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

আজ ৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. জাহিদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে জাগো নিউজ।

সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সর্বপ্রধান কারারক্ষী মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

এদিকে সোমবার রাতে সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের পৃথক দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। এই রিমান্ড শুনানি বুধবার (৯ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।

রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো-পূর্বক ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম ইয়াসমিন আরা আসামি সম্রাটের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন ও রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।

এছাড়াও রমনা থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

আদালত তার উপস্থিতিতে তার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন ও রিমান্ড শুনানির জন্য একই দিন ধার্য করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দীন।

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে র্যা ব-১ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় মামলা দুটি করে। দুই মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক। এর মধ্যে মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও আসামি করা হয়েছে।

রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলা দুটি নথিভুক্ত হওয়ার পর আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেব। এ সময় র্যা বের পক্ষ থেকে মামলার স্বপক্ষে আলামতও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখব এবং আদালতে পেশ করব।’

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসার পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর হাইপ্রোফাইল কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও খোঁজ মিলছিল না সম্রাটের। এসবের মধ্যেই তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর শনিবার রাত থেকেই তার গ্রেপ্তারের খবর এলেও গত ৬ অক্টোবর, রবিবার ভোরে তাকে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এসময় তার সঙ্গে থাকা সহযোগী আরমানকেও আটক করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করে র‌্যাব।

রবিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল সম্রাটকে নিয়ে কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে তার কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত চালানো এ অভিযানে সেখান থেকে একটি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া জব্দ করেন তারা।

পরে তাকে ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন র‌্যাব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

উল্লেখ্য, রবিবার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরই ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও আরমানকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

-ডিকে

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter