অরণ্য দ্বিপু, স্টকহোম,সুইডেন থেকেঃ
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের যতগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনটি হবে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন। এই নির্বাচনের জয় পরাজয়ের হিসাব নির্ভর করবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা ফ্যাক্টরের উপর।
এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিরও উচিত হবে প্রার্থী বাছাই এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সর্বোচ্চ যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করা যার মাধ্যমে দলের জয় সুনিশ্চিত হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফক্টরস বা কারণসমূহ পর্যালোচনা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ সদর ৫ আসনের জন্য কেন মামুনুর রহমান (রিপন) সবচেয়ে যোগ্য ও ডিজার্বিং ক্যান্ডিডেট তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উদাহরণস্বরূপ তুলে ধরছি।
সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার-
প্রার্থী বাছাই এর ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত যিনি দলের দুর্দিনেও দলের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ডেডিকেটেড ছিলেন এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি জেল, জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।এই ক্ষেত্রে মামুনুর রহমান রিপন নিঃসন্দেহে নওগাঁ সদরে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবেন।কেননা দলের প্রতিটা প্রোগ্রাম ও আন্দোলনে তিনি সম্মুখ সারীতে থেকে তৃণমূলকে সাথে নিয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যখন অনেকেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ বাহিনীর সামনে দাঁড়াতে ভয় পেত এবং আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে লিয়াজো করে চলত তখনও তিনি দলের স্বার্থে আপসহীন থেকে নিজের সর্বোচ্চ উজার করে দিয়েছেন এবং কখনো তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে পিছু পা হননি।উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের ২৮ শে অক্টোবরে বিএনপির “ঢাকা চলো” মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের সময় ঢাকার কাকরাইল থেকে পুলিশ কর্তৃক আটক হন এবং ডিবি হারুনের কার্যালয়ে রিমান্ডে নিয়ে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়, যা আল জাজিরা সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছিল।এরপরও তিনি মামলার পর মামলায় জর্জরিত হয়ে দীর্ঘ ৯৫ দিন পর কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
এছাড়া ও তিনি ২৪ এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংগঠিত আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বৈরাচার হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন।যার বিভিন্ন ছবি-ভিডিও তখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কলঙ্কমুক্ত-
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিঃসন্দেহে প্রতিপক্ষ দলগুলো বিএনপির বিপক্ষে “চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের ট্যাগ দেওয়া অথবা অভিযোগ আনা” কে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করবে।সেই ক্ষেত্রে দলের এমন কাউকে নমিনেশন দেওয়া ঠিক হবে না যার নামে দলের “জিরো টলারেন্স নীতি” গ্রহণের পরও বিশেষ করে পাঁচ আগস্ট এর পরে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।তা না হলে প্রতিপক্ষ দলগুলি এই ইস্যুটিকে নির্বাচনে তাদের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারে।এক্ষেত্রে মামুনুর রহমান রিপন হতে পারেন সেরা বিকল্প যাকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি অথবা দখলদারিত্বের কালিমা কখনই গ্রাস করতে পারেনি।পাঁচ আগস্ট এর পরেও অনেকের মতই শত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যিনি নিজেকে দুর্নীতির গড্ডালিকা প্রবাহে না ভাসিয়ে নিজের ন্যায় এবং নীতিতে অটল থেকেছেন।
জনগণের আস্থা অর্জন ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা-
এমন কাউকে নমিনেশন দেওয়া ঠিক হবে না যিনি এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে নওগাঁ পৌরসভা বা সদরের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক পজিশনে দায়িত্বরত ছিলেন কিন্তু তিনি তার গুরু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।মনে রাখা দরকার সাধারণ মানুষ এখন আগের থেকেও অনেক বেশি তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং তারা প্রশ্ন করতে জানে।আগামী নির্বাচনে তাদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো হতে পারে বিশেষ করে রাস্তা-ঘাট সংস্কার ও সম্প্রসারণ সম্পর্কে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও শহর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন সহ ঘুষ, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি সম্পর্কে।অর্থাৎ অতীতে নওগাঁর সার্বিক উন্নয়নে গুরুদায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যর্থ কোন ব্যাক্তি যদি নমিনেশন পান সে ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে এবং প্রতিপক্ষ দলগুলি এই সুযোগটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।
এমতাবস্থায় তরুণ, উদীয়মান এবং নতুন কিন্তু জনসাধারণের সাথে সুগভীরভাবে সম্পৃক্ত মুখ মামুনুর রহমান রিপন হতে পারেন দলের জন্য বেস্ট অপশন।উদাহরণস্বরূপ, তরুণ ও নতুন মুখ সত্ত্বেও জোহরান মামদানির সদ্য সমাপ্ত নিউ ইয়র্ক সিটি জয়ের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এই অবিশ্বাস্য জয়ের অন্যতম কারণ ছিল একদিকে যেমন তরুণদের ভোট ও জনসাধারণকে আকৃষ্ট করতে পারা, এবং অন্যদিকে বয়স্ক ও অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ ক্যান্ডিডেট গণের পূর্বের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া।সুতরাং মামুনুর রহমান রিপন এমন একজন প্রার্থী হতে পারেন যিনি খুব সহজেই তরুণ ভোটারদেরকে আকৃষ্ট করতে পারেন এবং নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্ত সকল মানুষের সাথে খুব সহজে মিশে যেতে পারেন।
তৃণমূলের সাথে দীর্ঘদিনের সুগভীর সম্পর্ক এবং বিপদে-আপদে পাশে থাকা-
একটি দলের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে তার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ডেডিকেশন এবং মোটিভেশন।তাই দলের লং টার্ম সাসটিনিবিলিটি ধরে রাখতে হলে এমন একজন নেতার প্রয়োজন যার সাথে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে রয়েছে বহুদিনের সুদৃঢ় সম্পর্ক, যিনি সুখে-দুখে সব সময় তাদের পাশে থেকেছেন এবং উক্ত এলাকায় হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসেননি।শুধুমাত্র উচ্চপর্যায়ে লবিং থাকার কারণে যদি এমন কাউকে ț কখনোই পাশে পাওয়া যায় নাই কিন্তু পটভূমি পরিবর্তনের পর অর্থাৎ দলের সুদিনে হঠাৎ অনেক বড় নেতা বনে গেছেন তাহলে দলের সত্যিকারের কঠোর পরিশ্রমী ও ত্যাগ স্বীকারকারী তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে হয়তো ভুল মেসেজ চলে যেতে পারে।ভবিষ্যতে দলের যদি আবার কোনও সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে তাদেরকে আবারো পূর্বের মতো মন থেকে মোটিভেট করা হয়তো কষ্টসাধ্য হয়ে যেতে পারে।সে ক্ষেত্রে এটা লং টার্মে দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সুতরাং নওগাঁ সদরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হতে পারেন মামুনুর রহমান রিপন, যাকে “তৃণমূলের প্রাণ” বলে সম্বোধন করা হয়।যিনি দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সব সময় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সুখে-দুখে পাশে থেকেছেন এবং তাদের বিপদে-আপদে সবসময় তাদের কাছে ছুটে গিয়েছেন।এমনকি গত ফ্যাসিস্ট সরকারের কঠিন সময় গুলোতে নিজে নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি দিনরাত নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে গিয়েছেন তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার জন্য।যার ফলশ্রুতিতে তিনি সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া নওগাঁ জেলা বিএনপির দী-বার্ষিক সম্মেলনে শত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের প্রত্যক্ষ ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
ধর্মভীরু ও ইসলামের প্রতি অনুগত-
৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমরাই সবচেয়ে বড় এবং প্রভাবশালী ভোটব্যাংক। তাদের মধ্যে সিংহভাগ মুসলিমই কট্টরপন্থিতায় বিশ্বাসী না হলেও তারা কিন্তু ঠিকই মনে প্রানে ধর্মভীরু।তারা এমন কাউকে তাদের নেতা হিসেবে নির্বাচন করতে চায় যার মধ্যে ইসলামিক মূল্যবোধ পরিলক্ষিত হয় এবং সমাজে অথবা এলাকায় বিভিন্ন ইসলামিক কার্যকলাপের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।কোন সন্দেহ নেই যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো মূলত ‘ইসলামকে’ তাদের ভোট জয়ের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।সেক্ষেত্রে দলের উচিত হবে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও ক্রিটিকালি এনালাইসিস করে খুবই সূচিন্তিত ভাবে এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া যিনি নিজেও একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম এবং যার সাথে এলাকায় ইসলামিক কার্যকলাপ ও উন্নয়নের সাথে সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সুতরাং এক্ষেত্রেও নওগাঁ সদর বিএনপিতে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন মামুনুর রহমান রিপন।খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন মসজিদ- মাদ্রাসার কমিটিতে থেকে মসজিদ- মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।শান্তির ধর্ম ইসলামকে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যেও তিনি নিয়মিত কোরআন মাহফিলে অংশগ্রহণ এবং আয়োজনের ব্যবস্থা করেন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এলাকার প্রায় সমস্ত ইমাম-ওলামার সাথে তার অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে।সুতরাং একমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব হবে নতুন নতুন মুসলিম ভোটারদের আকৃষ্ট করা এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোর অপরাজনীতি ও কুট কৌশল প্রতিহত করা।
সনাতন ধর্মসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ-
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে সনাতন ধর্ম সহ অন্যান্য ধর্মালম্বি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রার্থী নির্বাচন।পরিসংখ্যান অনুযায়ী নওগাঁ সদরের প্রায় ১২ ভাগ হিন্দু ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস।আর এই বৃহত্তর সংখ্যক ভোটার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে এতে কোন সন্দেহ নেই. সুতরাং তাদের মন তথা ভোট জয় করতে হলে দলের এমন কাউকে নমিনেশন দেওয়া উচিত হবে যিনি তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন, মন্দির সুরক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা পালনে সক্ষম এবং তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ ও খোঁজ খবর রাখেন।
এক্ষেত্রেও নওগাঁ ৫ আসনে মামুনুর রহমান রিপনের নাম থাকবে সবার উপরে।কেননা একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম হয়েও তিনি মনেপ্রাণে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদা সচেষ্ট ও বদ্ধপরিকর।যেকোনো বিপদ আপদে তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সর্বদা তাদের পাশে থেকেছেন।উদাহরণস্বরূপ, ৫ আগস্টের পর যখন বেশিরভাগ হিন্দু ভাইবোনেরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও আতঙ্কিত ছিলেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন তখন তিনি নিজে ছুটে গিয়েছিলেন বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে এবং এবং দলের নেতা নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন যা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল।সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজাতেও তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন মন্ডপে সেল গঠন করে পাহারা নিশ্চিত করেছেন এবং পূজা কমিটি গুলোর আমন্ত্রণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি অন্য ধর্মের হলেও সবাই তাকে মন থেকে ভালোবাসে ও সম্মান করে তার উদারতা, আন্তরিকতা, ও মহানুভবতার কারণে।
দল-মত নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্যতা-
মামুনুর রহমান রিপন এমন একটি নাম যাকে দল মত নির্বিশেষে নওগাঁর প্রায় সকলেই ভালোবাসে ও সম্মান করে।তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী, উচ্চশিক্ষিত, ন্যায় বিচারক এবং কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না এমনকি সেটা যদি নিজ দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধেও গিয়ে থাকে।তিনি সদা হাস্যোজ্জ্বল, নিরহংকারী ও খুব সহজেই সকল পর্যায়ের মানুষের সাথে মিশে যেতে পারেন।এমনকি তার নিজের এলাকায় অন্য কোন দলের সমর্থকও যদি বিপদগ্রস্ত হয় তিনি ছুটে যান তাদের সাহায্যের জন্য।ফলস্বরূপ, তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে জাতীয় পার্টি, জামাতে ইসলাম এমনকি বাম-ডান সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।বলাবাহুল্য, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণে অক্ষম হয় তাহলে তাদের সুনির্দিষ্ট ভোট ব্যাংকও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।তাই প্রার্থিতা বাছায়ে এমন একজনকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত যিনি শুধু বিএনপি না, আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি থেকে শুরু করে নতুন তরুণ ভোটারদের কেউ খুব সহজেই আকৃষ্ট করতে পারবেন।এই ক্ষেত্রে, মামুনুর রহমান রিপনই হবেন বেস্ট চয়েজ।
এছাড়া নওগাঁর সার্বিক উন্নয়নে এবং নওগাঁ কে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার রয়েছে স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নমূলক মেগা প্ল্যান।উদাহরণস্বরূপ, আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, চার লেন সড়ক, কৃষি–শিল্পে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শহরের পানি–ড্রেনেজ উন্নয়ন নিশ্চিত করে মানুষের জীবনমান দ্রুত উন্নত করা ইত্যাদি।
ইতিমধ্যে তিনি নওগাঁ সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিজ উদ্যোগে ফ্রি ইন্টারনেট এবং ওয়াই-ফাইর ব্যবস্থা করে করেছেন।তরুণদের খেলাধুলায় আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করা এবং নিয়মিত টুর্নামেন্টের আয়োজন করছেন।উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের প্রথম “আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি গোল্ড কাপ” ক্রিকেট টুর্নামেন্ট তিনিই প্রথম আয়োজন করেছিলেনt যা তৎকালীন সময় বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় ফলাও ভাবে প্রচার হয়েছিল।সুতরাং আগামী জাতীয় নির্বাচনে এমন একজনকে জন প্রতিনিধি হিসেবে নমিনেশন দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে যিনি তরুণ প্রজন্মকে রিপ্রেজেন্ট করেন।কেননা এই বিশাল সংখ্যক তরুণ প্রজন্মই কিন্তু আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
সর্বোপরি, নওগাঁ সদর–৫ আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়—এটি ত্যাগ, সততা, গ্রহণযোগ্যতা, উন্নয়নদর্শন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার পরীক্ষাও বটে। এই সবগুলো মানদণ্ডে যিনি সমানভাবে উত্তীর্ণ, যিনি তৃণমূল থেকে শুরু করে সব ধর্ম, সব শ্রেণি ও সব রাজনৈতিক মতের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তিনি হলেন মামুনুর রহমান রিপন। তার ত্যাগ, নির্যাতন সয়ে দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য, দুর্নীতি–চাঁদাবাজিমুক্ত পরিচয়, তৃণমূলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, ইসলামী মূল্যবোধে অনুগত জীবনধারা এবং সকল ধর্মাবলম্বীর প্রতি দায়িত্ববোধ—এই গুণগুলোই তাকে আগামী নির্বাচনে নওগাঁবাসীর সবচেয়ে যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও ভবিষ্যত–নিরাপদ প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।নওগাঁর সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি, সাম্য ও স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতির জন্য তিনি হতে পারেন সর্বোত্তম নেতৃত্বের নাম।
-শিশির



