অনলাইনেই আইপিডিসি’র প্রান্তিক ‘ইনভেস্টরস মিট’

অনলাইনেই আইপিডিসি’র প্রান্তিক ‘ইনভেস্টরস মিট’

অর্থনীতিঃ

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রাইভেট খাতের প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা, বেঞ্চমার্ক, কৌশলগত উদ্যোগ নিয়ে প্রথম প্রান্তিক অধিবেশনটি পরিচালনা করেছে।

রবিবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত অধিবেশনটিতে দেশে চলমান করোনা মহামারীর মধ্যেও যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরা হয়।

অনলাইনে অধিবেশনটি পরিচালনা করেন আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মমিনুল ইসলাম এবং চিফ ফাইন্যান্সিয়্যাল অফিসার ফাহমিদা খান। আইপিডিসির প্রধান প্রধান বিনিয়োগকারী, ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট, গ্রাহক এবং সাংবাদিকদের অনেকেই অধিবেশনে অংশ নেন। এতে শুধুমাত্র প্রথম প্রান্তিকের অবস্থানই তুলে ধরা হয়নি, বরং করোনা মহামারিতে প্রতিষ্ঠানটির টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্পও তুলে ধরা হয়। প্রথম ত্রৈমাসিক সাফল্য ও উদ্যোগ উপস্থাপনের সময় মমিনুল ইসলাম কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জোর দেন এবং গ্রাহক ও দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূনর্ব্যক্ত করেন।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ১০০% এরও বেশি উদ্বৃত্ত সঞ্চিতি রেখেও কর আদায়ের পর মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫০ মিলিয়ন টাকা। বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অনাদায়কৃত ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত কম, মাত্র ১.৫৩%। গ্রাহক ডিপোজিটের প্রবৃদ্ধির হার ৬.৪%, যা ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই ফল। আর্থিক খাতে স্বল্প-মেয়াদী ও মধ্যম-মেয়াদীর সকল শর্ত পূরণের জন্য পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে আইপিডিসি’র, ৩১ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী আইপিডিসি’র উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ৪৯২.৫ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মূলধন পর্যাপ্ততা হার ১৭.৬০%, যেখানে নিয়মানুযায়ী ১০.০০% থাকলেই শর্ত পূরণ হয়ে যায়। বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও, ভবিষ্যত সংকটের আশংকা এড়াতে আরও বেশি মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানান জনাব মমিনুল ইসলাম।

অধিবেশনে দেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধনকারী আইপিডিসি’র বেশ কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাফল্য তুলে ধরেন। তাছাড়া দেশের একমাত্র ডিজিটাল রিটেইল ফাইন্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম আইপিডিসি ডানা-র অধীনে ২০২০ সালের মধ্যে, ২৮,০০০ রিটেইলারের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার Kvh©Kix মূলধন A_©vq‡bi লক্ষ্য রয়েছে । এতে সহজেই, স্বল্প ব্যয়ে, জামানত মুক্ত ও সংগঠিত পদ্ধতিতে রিটাইলারদের জন্য অর্থের সংস্থান করে স্বনির্ভর ব্যবসার সুযোগ Kiv m¤¢e ।

‘আইপিডিসি’ গত বছর চালু করেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথমব্লক চেইন ভিত্তিক ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্ম ‘অর্জন’, যার মাধ্যমে আইপিডিসি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের দেশের লকডাউন পরিস্থিতিতেও ১,১৩৪ টি চালান এর বিপরীতে ১৩৫.৫ কোটি টাকা বিতরণ করে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়াও, প্রযুক্তি নির্ভর উদ্ভাবনী প্লাটফর্ম আইপিডিসি ইজি’র মাধ্যমে গ্রাহকদের পণ্য অর্থায়নের জন্য সহজ কিস্তি সুবিধা চালু করতে ৩১ মার্চ ২০২০ নাগাদ ৪,০০০ রিটেইলার এর সাথে চুক্তি করেছে। দেশে অর্থনৈতিক সংকট চলাকালীন Ae¯’vq চলমান মহামারী মোকাবিলায় সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষকে সহায়তা করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আইপিডিসি। আইপিডিসির সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য সংস্থা সারাদেশে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আইপিডিসি সময়োপযোগী একটি উদ্ভাবনী পণ্য ও সমাধান নিয়ে আসে, তা হচ্ছে ‘আইপিডিসি মানবতা’। যেখানে এক লাখ টাকা ডিপোজিটে একটি অসহায় পরিবার পাবে এক মাসের খাবার, আইপিডিসি ও ডিপোজিটকারীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে।

অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে গ্রাহকের আমানত শোধ করার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী তারল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মমিনুল ইসলাম বলেন, “আইপিডিসি’র পরিকল্পনা সমূহ চলমান আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জে এবং আগামী দশ বছরে বাংলাদেশের সম্ভাবনার সাথে সম্পৃক্ত। যার ফলে দেশে চলমান মহামারী থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের লক্ষ্যে অটুট থাকতে সক্ষম হয়েছি। এর পাশাপাশি আমরা বিশ্বাস করি, সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ গ্রাহকদের অত্যন্ত নিরাপত্তার সাথে সেবা প্রদানে আমাদের সাহায্য করবে, সেইসাথে আগামী দিনের জন্য একটি গতিশীল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অবদান রাখবে।”

-শিশির

Print Friendly, PDF & Email
FacebookTwitter